বাংলার দ্বিতীয় ‘নক্ষত্র সম্মান’ সম্প্রচারিত হবে ৩০ মার্চ, রবিবার, TV9 বাংলায় বিকেল ৫টা
কলকাতা, ৩০ মার্চ : দেশে-বিদেশে আলো ছড়ানো এক ঝাঁক নক্ষত্রকে সম্মান জানাল TV9 বাংলা। শহরের এক পাঁচতারা হোটেলে এই ‘নক্ষত্র সম্মান’-এর মঞ্চে ছিলেন TV9 নেটওয়ার্কের এমডি বরুণ দাস। তাঁরই পরিকল্পনা ও সক্রিয় উদ্যোগ-অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সম্মাননা অনুষ্ঠান। TV9 বাংলার দ্বিতীয় ‘নক্ষত্র সম্মান’ সম্প্রচারিত হবে ৩০ মার্চ রবিবার, TV9 বাংলায় বিকেল ৫টা থেকে।
TV9 বাংলার দ্বিতীয় ‘নক্ষত্র সম্মান’-এ কুর্নিশ জানাল হল ক্রীড়া, নাটক, চিকিৎসা-গবেষণা, ইতিহাস-গবেষণা, মানবসেবায় ব্রতী বাংলার ৬ জন কৃতী সন্তানকে। পাশাপাশি নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে চলা বাস্তবের একঝাঁক হিরোকেও সম্মান জানাল TV9 বাংলা। TV9 বাংলার দ্বিতীয় ‘নক্ষত্র সম্মান’-এর আয়োজন করে তা স্মরণীয় করে রাখলেন TV9 নেটওয়ার্কের এমডি বরুণ দাস।
এই অনুষ্ঠানে ‘প্রথম থেকে প্রথমে’ সম্মানে ভূষিত করা হয় ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেট অধিনায়ক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে। ‘জীবনকৃতি’ সম্মান দেওয়া হয় প্রবীণ নাট্যকর্মী রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তকে। এ ছাড়া, ক্যানসার গবেষণার জন্য ডা. অসীমা মুখোপাধ্যায়, সিন্ধুলিপির পাঠোদ্ধারের দিশা দেখানোর জন্য বহতা অংশুমালী, দৃষ্টিহীনদের নিয়ে নাটক পরিচালনার জন্য শুভাশিস গঙ্গোপাধ্যায় এবং শবর জাতির শিশুদের মধ্যে শিক্ষা বিস্তারের জন্য ড. অরূপ রায়কে দেওয়া হয় নক্ষত্র সম্মান।
প্রচারের আলোর বাইরে কাজ করে চলা যে পাঁচ জনকে এ দিনের অনুষ্ঠানে আলোকবৃত্তের মাঝে এনে সম্মানিত করল TV9 বাংলা, তাঁরা হলেন: একক উদ্যোগে বনসৃজন করা দুখু মাঝি, দরিদ্রদের জন্য স্কুল খোলা রেবা মুর্মু, বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষক প্রবীর পাল এবং ভবঘুরেদের মাথা গোঁজার ঠাঁই গড়ে দেওয়া সাজু তালুকদার।
“বছরে একটা দিন আসে আমরা যে মানুষগুলোকে দেখতে পাই, যারা সারা বছরে দৌড়ে বেড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগান। আমরা যে কাজগুলো করি, যে কাজগুলো একটা ছোট্ট শব্দ, মানুষের পাশে। ছোট্ট হলেও তার ব্যাপ্তিটা মারাত্মক। আমরা চেষ্টা করি মানুষের পাশে থাকতে, কারণ মানুষ সত্যি সত্যি কিছু-কিছু ক্ষেত্রে খুব একলা। মানুষের পাশে থাকতে গিয়ে আমরা দেখেছি যে, এটার জন্য একটা অদ্ভূত লড়াই দরকার হয়, অদ্ভূত একটা মানসিকতা দরকার হয়, যেই মানসিকতার জায়গায় অনেক কিছু ছাড়তে হয়, ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। এগুলো করার কথা ভাবতে গেলে, বাইরে থেকে অনেকই রয়েছেন যারা সত্যি-সত্যি আমাদের পথ দেখান, আমরা তাঁদেরকে সব সময় দেখতে পাই না, কিন্তু তাঁদের থাকাগুলো আমাদের কোথায় গিয়ে অনুপ্রাণিত করেন। যাঁরা আমাদের এ ভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন, তাঁদের সম্মান জানিয়ে আমরা আপনাদের পাশে থাকার বেশ একটা রসদ জোগাড় নেব। আমরা তাঁদের আজ সম্মান জানাব এই জন্যে যাঁরা টিভির পর্দায় এঁদের দেখবেন এবং জানবেন আমাদের কত কিছু করার আছে। আজকে সেই জন্য আমাদের কী করার আছে, সেটা আমাদের যাঁরা জানাবেন তাঁদের সম্মান জানাতে আমাদের এই বিশেষ সম্মান জানানোর একটা ক্ষেত্র, মঞ্চ— আমাদের নক্ষত্র সম্মানের মঞ্চ। আমরা তাঁদের সম্মান জানাব এবং নিজেরা অনুপ্রাণিত হব।
বক্তা- অমৃতাংশু ভট্টাচার্য, ম্যানাজিং এডিটর ও বিজনেস হেড, TV9 বাংলা।
বরুণ দাস, TV9 নেটওয়ার্কের ম্যানেজিং ডিরেক্টর বলেন,
“এ বছরটা যখন শুরু হয়, তখন আমি আমার বন্ধুদের, সহকর্মীদের, আত্মীয়দেরকে বলছিলাম ২০২৫ বছরটা একটা ইনফ্লেকশন পয়েন্ট (inflection point) হতে চলেছে। মানে গোটা বিশ্বের জনসাধারণের জীবনধারায় একটা আমূল পরিবর্তন হতে পারে। I thought life is not going to be same anymore. আমাদের সবার কাছে দুটো অপশন থাকবে- either perish or flourish. উত্থান অথবা পতন, যা বোঝায় এক জায়গায় কেউ থাকব না। এটা আমি কোন ভবিষ্যদ্বাণী করছি না। দুটো ব্যাপার আমাকে প্রভাবিত করেছিল-প্রথমটা হচ্ছে AI. প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন যা আমরা দেখেছি— electricity, air travel, silicon wafer, computer, internet, এগুলো মানব ইতিহাসকে একটা নতুন দিশা দেখিয়েছে। এই আবিষ্কারগুলোর একটি প্রতিকূলতা আছে সেটা কিন্তু এতটা স্পষ্ট ছিল না। সেই একটা জায়গায় আমার মনে হয় AI একেবারে আলাদা, কোথাও এটা মনে হয়, It is a Frankenstein। AI মানব প্রজাতির ভাল করবে বেশি, না খারাপ করবে বেশি এটা কেউই জানে না। আমার দ্বিতীয় কারণটা ছিল geopolitical uncertainty. ২০২৪ সালে গোটা বিশ্বে প্রায় ৬০টা দেশে ভোট হয়েছিল। এই প্রযুক্তি বিঘ্নিত হওয়ার সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা যেটা আমি ভেবেছিলাম আমাদের জীবনে পরিবর্তন আনবে। তারপর দেখতে দেখতে আমাদের প্রতিবেশী দেশ প্রায় ৫৫ বছরের ইতিহাসকে বর্তমানে নিয়ে এল। তারপরে এলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বাণিজ্য ও অর্থনীতির বিশ্বায়নের যে বাতাবরণ তৈরি হয়েছিল, এখানে বিশ্বের সমস্ত বড় অর্থনৈতিক দেশগুলো তারা নিজেদের স্বার্থ দেখত না, তারা একে অন্যের পরিপূরক হওয়ার চেষ্টা রাখত। কিন্ত ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তার শুল্ক ৮০ বছরের পুরনো মৌলিক নীতিগুলিকে নাড়িয়ে দিয়েছে যা বিশ্ব আগে ব্যবহার করত। আমি মনে করি মেক অ্যামেরিকা গ্রেট এগেন (MAGA) এটা নিয়ে কোন ভুল করেননি। অ্যামেরিকাবাসী এ জন্য তাঁকে ভোট দিয়ে এনেছে। আমাদের দেশে যখন প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন ইন্ডিয়া ফার্স্ট বা আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন বললেন বেঙ্গল ফার্স্ট, আমার মনে হয় না সেখানে কোনও সমস্যা আছে। কিন্তু আমাদের ইন্ডিয়া ফার্স্ট আর ট্রাম্পের মাগা-র মধ্যে তফাৎ আছে। গোটা বিশ্ব যখন জানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মতো নেতৃত্বের অধীনে আমাদের দেশ, যিনি বিশ্বাস করেন যে আমার উত্থান কারওর পতনের কারণ হতে হবে এ রকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই।
অনন্য বৈদেশিক নীতির, অন্তর্ভুক্তি এবং বিকাশ ঘটবার কারণে ভারত আমাদের জন্য বিশ্বের দরবারে একটি অনন্য স্থান তৈরি করেছে। প্রায় বেশিরভাগ দেশই আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চায়। ভারত আবার জগৎসভায় শ্রেষ্ট আসন লবে। এই জায়গায় আমি দেখি পশ্চিমবঙ্গের একটা সুবর্ণ সুযোগ আছে। আমরা যদি ইতিহাসের পাতা ওল্টাই প্রথম থেকেই ভারত যখন সাফল্যের মুখ দেখেছিল তখন বাংলা নেতৃত্ব দিয়েছ। ১৮৯৩ সালে মহাসম্মেলনে শিকাগোতে স্বামীজি যেখানে ভাতৃত্ব ও সম্প্রীতি আদর্শে গোটা পৃথিবীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ঊনবিংশ শতাব্দীতে রামদুলাল দে নিজেকে প্রথম মাল্টিনেশন্যাল কোম্পানিতে নিজেকে ভারতীয় শিল্পপতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। এর পর একের পর এক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে আচার্য জগদীশচন্দ্র বোস, সত্যেন্দ্রনাথ বসু, সাহিত্যে রবীন্দ্রনীথ ঠাকুর, ফিল্মে সত্যজিৎ রায়, অর্থনীতিতে অভিজিৎ বিনায়ক, অমর্ত্য সেন। বিশ্ব স্তরে ভারত যেখানেই সাফল্য পেয়েছে, বাঙালীরা নেতৃত্ব দিয়েছে। আমাদের সাথে বসে আছেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়। ভারতীয় ক্রিকেটকে কোথায় তিনি নিয়ে গেছে, আমরা তা জানি। সেখান থেকে আমাদের আর ফিরে তাকাতে হয়নি। সৌরভকে আমার প্রশ্ন, সৌরভ, ফুটবল থেকে ক্রিকেটে কে সরিয়ে দিল? তুমি ছোটবেলায় জেভিয়ার্সে ফুটবল খেলতে। সেটা যদি রাখতে তা হলে ১২৬ RANK-এ থাকা ইন্ডিয়ান ফুটবল দলকে ৫০-এর কাছাকাছি নিয়ে যেতে আর আমরা ২০২৬ বা ২০৩০-এ ওয়ার্ল্ড কাপের স্বপ্ন দেখতাম। জোকস অ্যাপার্ট, সৌরভ একটা সম্পূর্ণ নতুন নেতৃত্বের সংজ্ঞা যা ক্রিকেটের জগতে আমাদের এত দিন যা শিখিয়েছে একটা অন্য মাত্রা এনে দিয়েছে। তাই আমার আশাবাদী মন বলছে, একটা সুবর্ণ সুযোগ আছে, বিশ্বস্তরে বাঙালিদের মধ্যে একটা অস্বাভাবিক ক্ষমতা আছে যে বাঙালীরা আবার নেতৃত্ব নিতে পারে। আমি বাঙালি যুবসমাজকে বলছি বড় স্বপ্ন দেখতে ও স্বপ্নের পেছনে নিরলস ভাবে ছুটতে। যখন আমরা স্বপ্নের পিছনে ছুটি, আমাদের আবেগ, কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতা আমাদের অনুপ্রাণিত করবে। আর এই অনুপ্রেরণার খোঁজে টিভি নাইন বাংলার নক্ষত্র সম্মানে আমরা আজকে বেশ কিছু বাঙালিকে সম্মান জানাতে যাচ্ছি। আমাদের প্রত্যেকের অনুপ্রেরণা হতে পারে, আর এই অনুপ্রেরণাই পারে আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে। উইনস্টন চার্চিলের একটি কথা বলে আমি শেষ করছি, “এক জন নেতিবাচক ব্যক্তি সম্ভাবনার মধ্যে একটা আশঙ্কা খুঁজে বেড়ান, সমস্ত আশঙ্কার মধ্যে একটা সম্ভাবনা খোঁজে একজন আশাবাদী।